কক্সবাজার ভ্রমণে ১২ টি সেরা দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য

কক্সবাজার মানেই কি শুধু বিশাল সমুদ্র সৈকত আর বালুচরে আছড়ে পড়া ঢেউ? একদমই নয়! বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকতের তকমা ছাড়িয়ে কক্সবাজারের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর দিগন্তজোড়া পাহাড়, গহীন অরণ্যের বুক চিরে বয়ে চলা ঝরনা এবং শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সব নিদর্শনে। অধিকাংশ পর্যটক শুধু মূল সৈকতে সময় কাটিয়ে ফিরে আসেন, কিন্তু তারা মিস করে যান মেরিন ড্রাইভের নির্জনতা, রামুর আধ্যাত্মিক শান্তি কিংবা সোনাদিয়া-মহেশখালীর আদিম মায়া।

১. মারিশ বনিয়া সমুদ্র সৈকত (Marish Bonia Sea Beach)

  • বিশেষত্ব: একপাশে সুউচ্চ পাহাড় আর অন্যপাশে বিশাল সমুদ্র—এমন দৃশ্য খুব কম জায়গায় দেখা যায়। মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশে এটি একটি নিরিবিলি সৈকত।

  • কেন যাবেন: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এটি সেরা জায়গা।

 

২. মিনি বান্দরবান (Mini Bandarban)

  • বিশেষত্ব: পেঁচারদ্বীপ ও ইনানির মাঝখানে অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকাটি আপনাকে বান্দরবানের আমেজ দেবে।

  • কেন যাবেন: ট্রেকিং বা পাহাড় থেকে সমুদ্র দেখার রোমাঞ্চ পেতে এখানে যেতে পারেন। চাঁদের গাড়ি বা টমটম নিয়ে এখানে যাওয়া সহজ।

 

৩. দরিয়ানগর গুহা (Darianagar Cave)

  • বিশেষত্ব: একে ‘কানা রাজার গুহা’-ও বলা হয়। এটি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য একটি রহস্যময় জায়গা।

  • কেন যাবেন: পাহাড়ের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গুহার গোলকধাঁধায় ঘুরতে যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ।

 

৪. বাঘোনা পাস ঝরনা (টেকনাফ) (Baghona Pass Waterfall)

  • বিশেষত্ব: টেকনাফের গভীর পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই ঝরনাটি বর্ষায় পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়।

  • কেন যাবেন: যারা ট্র্যাকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং এবং সুন্দর জায়গা। পাথুরে পথ দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটি রোমাঞ্চকর।

 

No photo description available.

৫. হিমছড়ি (Himchori)

  • বিশেষত্ব: হিমছড়ি পাহাড় থেকে নীল সমুদ্রের বিশালতা দেখা যায়। এছাড়া এখানকার ছোট ঝরনা ও ইকো-পার্ক পর্যটকদের মূল আকর্ষণ।

  • কেন যাবেন: পাহাড়ের চূড়ায় প্রায় ২০০ সিঁড়ি বেয়ে উঠে সমুদ্রের প্যানোরামিক ভিউ দেখার জন্য।

 

৬. মেরিন ড্রাইভ রোড (Marine Drive Road)

  • বিশেষত্ব: এটি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি রাস্তা, যার একদিকে সমুদ্র এবং অন্যদিকে পাহাড়।

  • কেন যাবেন: খোলা জিপ বা বাইকে চড়ে মেরিন ড্রাইভের বুক চিরে ভ্রমণ করা যেকোনো পর্যটকের জন্য লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স।

 

৭. সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island)

  • বিশেষত্ব: মহেশখালীর দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নির্জন এক দ্বীপ। এর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য এবং লাল কাঁকড়া পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

  • কেন যাবেন: যারা একদম কোলাহলমুক্ত পরিবেশে তাবু টাঙিয়ে ক্যাম্পিং করতে চান।

৮. মহেশখালী দ্বীপ (Moheshkhali Island)

  • বিশেষত্ব: বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ। আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ বিহার এবং ম্যানগ্রোভ বন এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

  • কেন যাবেন: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দ্বীপের সাধারণ জীবনযাত্রা দেখতে। স্পিডবোটে করে এখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটিও চমৎকার।

 

৯. ১০০ ফুট সিংহশয্যা বুদ্ধ মূর্তি (রামু) (100 Feet Buddha Temple)

  • বিশেষত্ব: রামুর বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে অবস্থিত এটি বিশ্বের অন্যতম বড় সিংহশয্যা বুদ্ধ মূর্তি।

  • কেন যাবেন: আধ্যাত্মিক শান্তি এবং চমৎকার নির্মাণশৈলী দেখার জন্য।

১০. রামু রাবার বাগান (Ramu Rubber Garden)

  • বিশেষত্ব: সারি সারি রাবার গাছের বন যেন কোনো ছবির মতো সাজানো। শান্ত এবং স্নিগ্ধ এক পরিবেশ।

  • কেন যাবেন: প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে এবং রাবার সংগ্রহের প্রক্রিয়া দেখতে।

 

১১. ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক (Dulahazra Safari Park)

  • বিশেষত্ব: বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। এখানে খোলা পরিবেশে বাঘ, সিংহ, হাতি এবং হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়।

  • কেন যাবেন: ফ্যামিলি ট্যুর বা বাচ্চাদের নিয়ে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জানাতে।

১২. টেকনাফ (Teknaf)

  • বিশেষত্ব: বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জনপদ। একদিকে নাফ নদী এবং ওপাড়ে মায়ানমারের পাহাড় দেখা যায়।

  • কেন যাবেন: সূর্যাস্ত দেখতে এবং টেকনাফের নির্জন সৈকতে সময় কাটাতে।

 


ভ্রমণের সঠিক সময় (Best Time to Visit)

  • নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (সেরা সময়): শীতকালে আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে। নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রায় সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করা সহজ। তবে এই সময়ে ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।

  • মে থেকে সেপ্টেম্বর (অফ-সিজন): বর্ষাকালে পাহাড়ের ঝরনাগুলো সজীব হয়ে ওঠে এবং প্রকৃতি সবুজ থাকে। যারা নিরিবিলি পছন্দ করেন এবং কম খরচে ঘুরতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি উপযুক্ত।

You Might Like